ঢাকা , সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ , ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০৯ কোটি টাকার শিল্পপার্ক—যেখানে নেই কোনো কারখানা

আলোর মুখ দেখছে না বৈদ্যুতিক শিল্পনগরী

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ০১:১৭:৪১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ০১:১৭:৪১ অপরাহ্ন
আলোর মুখ দেখছে না বৈদ্যুতিক শিল্পনগরী ফাইল ছবি
বুড়িগঙ্গার কোলঘেঁষা পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি পরিবেশ থেকে ক্রেন, লেদ মেশিন, মেটাল কাটিং আর লোহা গলানোর বিষাক্ত ধোঁয়া সরিয়ে এক ছাদের নিচে আনার কথা ছিল। সে লক্ষ্যেই ঢাকা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে মুন্সীগঞ্জে ৩০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বিশেষায়িত বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী। তবে সেখানে শিল্পকারখানা স্থাপন তো দূরের কথা, প্লট বরাদ্দই শেষ করতে পারেনি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।

শিল্পনগরীটির নির্মাণ শেষ হওয়ার চার বছর পেরোলেও ৫০ একর জমিতে মোট ৩৬১টি প্লটের মধ্যে মাত্র ২৯টি বা ৮ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এখনো একটিও কারখানা গড়ে ওঠেনি। ফলে শিল্পায়ন বাড়াতে সরকারি অর্থে গড়ে তোলা শিল্পনগরীটির উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না। পুরান ঢাকার সেই ঝুঁকিপূর্ণ গলিতেই শিল্পকারখানা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। সরেজমিন পরিদর্শন ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিল্পনগরীটি কার্যত পড়ে থাকার পেছনে প্রধান কারণ প্লটের 'উচ্চ দাম' ও অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থা। ভূমি উন্নয়ন, রাস্তা, ড্রেন, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের লাইনসহ অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু শিল্পকারখানা গড়ে না ওঠায় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের শিল্পনগরীটি এখন কার্যত ভূতুড়ে প্রান্তরে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় জন্মেছে আগাছা।

গত ১৩ আগস্ট প্রকাশিত বিসিকের প্লট বরাদ্দের নির্দেশনা অনুযায়ী, শিল্পনগরীটির প্রতি বর্গফুট জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ১০৩ টাকা। ৭২০ বর্গফুটে এক কাঠা হিসাবে প্রতি কাঠার দাম দাঁড়ায় প্রায় ১৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা, যা বিসিকের অন্যান্য বরাদ্দযোগ্য শিল্পপার্কের জমির তুলনায় অনেক বেশি।

প্লটের মূল্য এককালীন অথবা ছয় বছরে ১২ কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে। নারী উদ্যোক্তারা আরও এক বছর, অর্থাৎ সাত বছরে মূল্য পরিশোধের সুযোগ পাবেন। আবেদনের সময় জমির মূল্যের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।

'শিল্পপার্কে প্লট বরাদ্দ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৩' অনুযায়ী, প্লট বরাদ্দ পাওয়ার পর কারখানার লে-আউট, ভবন নির্মাণ, মেশিনারি স্থাপন, পরীক্ষামূলক উৎপাদন ও বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে উদ্যোক্তারা অন্তত ৩০ মাস সময় পাবেন। এই সময়ের পরও বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে ব্যর্থ হলে প্লট বাতিল হবে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, শিল্পনগরীতে প্রতি কাঠা জমির যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। শুধু প্লট বরাদ্দ নিলেই হবে না, নতুন করে কারখানা গড়ে তুলতে আরও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন।

কিন্তু করোনা মহামারির পর হালকা প্রকৌশল খাত ধাক্কা খায়। এরপর ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন শিল্পখাতকে আরও সংকটে ফেলেছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যমান বিনিয়োগ ফেলে নতুন শিল্পনগরীতে যাওয়া অনেক উদ্যোক্তার পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না।

ঢাকা থেকে শিল্পনগরীর সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম বাধা ধলেশ্বরীর শাখা নদীর ওপর নির্মাণাধীন মোল্লাবাজার সেতু। শিল্পনগরীর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার দুই বছর পর ২০১৮ সালে সেতুটির কাজ শুরু হয়।

তবে করোনার সময় কাজ বন্ধ থাকা, নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি, ঠিকাদারের অনীহা ও ঠিকাদার পরিবর্তনের কারণে ২২০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি আট বছরেও শেষ হয়নি। সেতুটির নির্মাণকাজ কবে শেষ হবে, তা কেরানীগঞ্জের স্থানীয় প্রকৌশল অফিসও জানে না।

উদ্যোক্তাদের মতে, হালকা প্রকৌশল পণ্যের বৈশ্বিক বাজার প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬৫ কোটি ২১ লাখ ডলারের প্রকৌশল পণ্য রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি। বর্তমানে দেশে ছোট-বড় ৫০ হাজারের বেশি হালকা প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

জানা যায়,  হালকা প্রকৌশল শিল্পের রপ্তানি বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে ২০১৬ সালে বিশেষায়িত মনোটাইপ শিল্পনগরী স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিন বছর মেয়াদে নেওয়া প্রকল্পটি শেষ হতে সময় লাগে ছয় বছর। পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ছিল ২১৩ কোটি টাকা। তবে মেয়াদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা বেড়ে যায়। ২০২২ সালের জুনে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। তখন মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৩০৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির মধ্যে ১৮৬ কোটি টাকা বিসিকের ঋণ এবং ১২৪ কোটি টাকা ইক্যুইটি। অর্থাৎ ঋণের টাকা সরকার বিসিকের কাছ থেকে ৫ শতাংশ সুদসহ ফেরত নেবে।

সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপি) অনুযায়ী, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান বাড়ানো এবং শিল্পনগরীতে নতুন শিল্প ইউনিট স্থাপনের মাধ্যমে ১০ হাজার ৬৫০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। শিল্প ইউনিট স্থাপনের উপযোগী করে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর থেকে প্রতিবছর উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আগ্রহপত্র চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করছে বিসিক। সর্বশেষ গত বছরের নভেম্বরে পত্রিকায় প্লট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর গত ১৩ আগস্ট আবারও বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে সংস্থাটি। শিল্পনগরীতে প্লট ফাঁকা থাকার তথ্য জানিয়ে এবং এর সুবিধা তুলে ধরে শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন ও ক্ষুদ্র-মাঝারি হালকা প্রকৌশল উদ্যোক্তাদের কাছেও চিঠি দিয়েছে বিসিক। তবে উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে তেমন সাড়া মিলছে না। 

বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ২৯টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া গেছে। ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই শিল্পনগরীতে কবে শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে বা উৎপাদন শুরু হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। বিসিকের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রাশেদুর রহমান বলেন, "প্লট বরাদ্দ দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।"
 সাড়া কম কেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, "উদ্যোক্তাদের দাবি, প্লটের দাম অনেক বেশি। শিল্প মালিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছি। তারা দাম কমানোর কথা বলছেন, কিন্তু এই দামের বিষয়ে বিসিকের কিছু করার নেই।" জমি অধিগ্রহণে দাম বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, "সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।" এদিকে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "জমির দাম অনেক বেশি। এই দামে প্লট বরাদ্দ নিয়ে শিল্প স্থাপন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।" সরকারের কাছে প্লটের দাম কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, "জমির দাম বেশি, আবার যোগাযোগব্যবস্থারও উন্নতি হয়নি। একটি সেতু নির্মাণ শুরু হয়েছে বহু বছর আগে, কিন্তু এখনো শেষ হয়নি।" স্থানীয় বিদ্যমান উদ্যোক্তারা আগ্রহ না দেখালেও প্রবাসে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি শিল্পনগরীতে প্লট নিয়েছেন বলে বিসিক সূত্রে জানা গেছে।

বিসিকের কর্মকর্তারা জানান, ওই ব্যক্তিরা বিদেশে থাকেন, কেউ চাকরি করেন, কেউ ব্যবসা করেন। দেশে ফিরে ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা থেকেই তারা প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। তবে ওই প্রবাসী ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।রাজধানীর ধোলাইখাল, সূত্রাপুর, পোস্তগোলা ও জিনজিরা হালকা প্রকৌশল পণ্যের হাব। আর পুরান ঢাকার নবাবপুর বৈদ্যুতিক পণ্য কেনাবেচার অন্যতম কেন্দ্র।  

শিল্পনগরীটির নির্মাণকাজ শেষের দিকে ২০২২ সালে সরকারের কাছে প্লট বরাদ্দে ভর্তুকি চেয়ে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি। ওই চিঠিতে চামড়া শিল্পনগরীর মতো প্লট বরাদ্দে ৮০ শতাংশ ভর্তুকি চেয়েছিল সংগঠনটি। তবে সরকার এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। বিদ্যমান দাম থেকে এই হারে ভর্তুকি দেওয়া হলে প্রতি কাঠা প্লটের দাম দাঁড়াবে প্রায় ৩ লাখ টাকা। আদালতের নির্দেশে ২০১৭ সালে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরানোর পর সরকারের সিদ্ধান্তে উদ্যোক্তাদের জন্য প্লটের দাম কমানো হয়েছিল। সরকারকে দেওয়া চিঠিতে সংগঠনটি জানায়, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ফলে ২০২৬ সালের পর বিশ্ববাজারে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের শিল্পের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে হালকা প্রকৌশল শিল্প 'গেম চেঞ্জার' হতে পারে। চিঠিতে বলা হয়, পরিকল্পিত শিল্পপার্কের অভাবে অধিকাংশ হালকা প্রকৌশল কারখানা বিক্ষিপ্তভাবে মহাসড়কের পাশে কিংবা আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে।

ফলে একদিকে উদ্যোক্তারা কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন না, অন্যদিকে সামাজিক ও পরিবেশগত গ্রহণযোগ্যতা বজায় রেখে উৎপাদন করাও তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে হালকা প্রকৌশল কারখানাগুলো পরিকল্পিত শিল্পপার্কে স্থানান্তর অত্যন্ত জরুরি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

রাজধানী থেকে বিসিক হালকা প্রকৌশল ও বৈদ্যুতিক পণ্য শিল্পনগরীর দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বেতকায় শিল্পনগরীটির অবস্থান। সেখানে যেতে কেরানীগঞ্জ উপজেলার মোল্লাবাজার এলাকায় ধলেশ্বরীর শাখা নদী পার হতে হয়। ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে ২০১৮ সালে নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় আট বছর পার হলেও সেতুটির নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। নদীর ওপর কয়েকটি স্প্যানসহ আংশিক নির্মিত সেতুটি এখন অনেকটা কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে আছে।সেতুটি কেরানীগঞ্জের মোল্লাবাজার ও মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলাকে যুক্ত করবে। নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় দুই পাড়ের মানুষকে এখনো ফেরিতে নদী পার হতে হচ্ছে। কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের প্রকৌশলী মোহাম্মদ গোলাম সারোয়ার বলেন, "ব্রিজটির কাজ অনেক আগে শুরু হলেও এখনো শেষ হয়নি। সুরমা নামে এক ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছিল, তারা কাজ করেনি।" "মূলত দুই অংশে ব্রিজটির কাজ হচ্ছে। মূল ব্রিজের কাজ চললেও ভায়াডাক্ট নির্মাণের ঠিকাদার কাজটি করবে না বলে জানিয়েছে। এ কারণে জমি অধিগ্রহণ ও নতুন ঠিকাদার নিয়োগের জন্য আলাদা দরপত্র আহ্বান করতে হবে। খুব সহসাই ব্রিজটি সম্পন্ন হচ্ছে না। তবে আমরা চেষ্টা করছি, যেন দ্রুত শেষ হয়," যোগ করেন তিনি।

মুন্সীগঞ্জের বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরীর প্লট বরাদ্দ ত্বরান্বিত করতে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বিসিক।     বিসিক শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। ওই চিঠিতে যোগাযোগ সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরে সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে অনুরোধ জানানোর উদ্যোগ নিতে শিল্প মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, বৈদ্যুতিক ও হালকা প্রকৌশল পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে মতবিনিময় করে জানা গেছে, ঢাকার সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরীর যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় প্লট বরাদ্দে সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তাদের আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় শিল্পায়নের স্বার্থে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ধলেশ্বরীর শাখা নদীর ওপর সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে অনুরোধ করা যেতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

সরেজমিনে শিল্পনগরীটি ঘুরে দেখা যায়, বালুচর থেকে বেতকা মূল সড়কের পাশে ৫০ একর জমিতে নির্মিত শিল্পনগরীটি এখন অনেকটাই আগাছার রাজত্ব। কোথাও কোথাও প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট উঁচু কাঁশবন জন্মেছে। ইটের বেষ্টনী দিয়ে আলাদা আলাদা প্লট তৈরি করা হয়েছে। বিদ্যুতের লাইনও স্থাপন করা হয়েছে। একটি প্লটে ইটের বেষ্টনী দিয়ে কারখানা স্থাপনের কাজ চলতে দেখা গেছে। শিল্পনগরীটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আল আমিন বলেন, "কিছু প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি, কিন্তু কারখানা স্থাপন হয়নি। শিল্পপ্লটগুলো আগাছায় ভরে গেছে। বছরের পর বছর এভাবেই দেখছি।" তিনি বলেন, "উন্মুক্ত জায়গা ও পার্কের ভেতরের রাস্তাগুলো সুন্দর হওয়ায় বিকেলে স্থানীয় লোকজন বেড়াতে আসেন। মূল গেট বন্ধ থাকে। তবে জুলাই আন্দোলনের সময় শিল্পনগরীর একটি অংশ ভেঙে ফেলায় ওই অংশ দিয়ে লোকজন ভেতরে প্রবেশ করেন।" শিল্পনগরী থেকে প্রায় ২০ মিটার পূর্বে মুদি দোকানি সেলিম আহমেদ বলেন, শিল্পনগরী চালু হলে এলাকায় কর্মসংস্থান বাড়ত। কিন্তু প্লট প্রস্তুত হওয়ার পরও কারখানা স্থাপন না হওয়ায় সেই আশা পূরণ হচ্ছে না। তিনি বলেন, "সরকার কর্মসংস্থান তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে। শিল্পনগরীটি চালু হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সরকার এদিকে নজর দিতে পারে।"  সূত্র: টিবিএস
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ